ভূমিকা
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, সদকা করা কিংবা কোনো নেক আমলের সওয়াব আল্লাহর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত করা মুসলিম সমাজে পরিচিত একটি বিষয়। একে সাধারণভাবে ঈছালে ছাওয়াব বলা হয়। বিশেষ করে মৃত বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব পৌঁছানোর প্রচলন রয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে। কেউ যদি অন্যের মৃত স্বজনের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং এর বিনিময়ে আগে থেকে নির্ধারিত টাকা বা পারিশ্রমিক নেন, তাহলে এর বিধান কী?
এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রথমে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে। একটি হলো ঈছালে ছাওয়াবের মূল বিধান। অন্যটি হলো ঈছালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা। Hanafi ফিকহে প্রথম বিষয়টি বৈধ বলে গ্রহণ করা হলেও দ্বিতীয় বিষয়টির বিধান ভিন্ন।
ঈছালে ছাওয়াব কী?
ঈছালে ছাওয়াব বলতে কোনো নেক আমল করার পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা যে, এই আমলের সওয়াব কোনো ব্যক্তি, বিশেষত মৃত কোনো মুসলিমের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।
এটি কেবল কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দোয়া, সদকা এবং অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও অন্যের জন্য দান করার বিষয়টি ফিকহের আলোচনায় এসেছে।
কুরআনে মুমিনদের এমন একটি দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে পরবর্তী মুমিনরা পূর্ববর্তী মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন, যারা ঈমানে আমাদের আগে অগ্রসর হয়েছে।
সূরা আল-হাশর, ৫৯:১০
এ আয়াত মৃত মুমিনদের জন্য দোয়া করার বৈধতার একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি।
মৃত ব্যক্তির জন্য নেক আমলের উপকারের প্রমাণ
সহিহ হাদিসে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করার অনুমতি পাওয়া যায়।
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, তাঁর মা হঠাৎ মারা গেছেন। তিনি মনে করেন, মা জীবিত থাকলে সদকা করতেন। তিনি মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করলে মা উপকৃত হবেন কি না জানতে চাইলে নবী ﷺ উত্তর দেন, হ্যাঁ।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩৮৮; ২৭৬০
আরেক বর্ণনায় সা‘দ ইবনু উবাদাহ (রা.) তাঁর মৃত মায়ের পক্ষ থেকে একটি বাগান সদকা করার কথা বলেন। নবী ﷺ তা অনুমোদন করেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭৬২
এসব হাদিস থেকে অন্তত এতটুকু স্পষ্ট যে জীবিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কিছু নেক কাজ করতে পারেন এবং তার দ্বারা মৃত ব্যক্তি উপকৃত হতে পারেন।
তাহলে কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াবও কি মৃতের কাছে পৌঁছায়?
এখানে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
Hanafi ও Hanbali মাজহাবের অবস্থান হলো, কোনো ব্যক্তি নেক আমল করে তার সওয়াব অন্য মুসলিমের জন্য দান করলে তা পৌঁছাতে পারে। Hanafi ফিকহের আল-হিদায়া ও বাদায়েউস সানায়ে-তে এই মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমাম কাসানি (রহ.) বাদায়েউস সানায়ে-এ লিখেছেন যে ব্যক্তি রোজা, নামাজ বা সদকা করে তার সওয়াব অন্য জীবিত বা মৃত ব্যক্তির জন্য দান করলে তা বৈধ এবং সওয়াব তাদের কাছে পৌঁছায়।
ইমাম মারগিনানি (রহ.) আল-হিদায়া-তেও বলেছেন, মূলনীতি হলো মানুষ তার কোনো আমলের সওয়াব অন্যের জন্য দান করতে পারে।
অন্যদিকে মালিকি ও শাফেয়ি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী শারীরিক ইবাদতের সওয়াব মৃতের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। তবে পরবর্তী কিছু আলেম এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন।
সুতরাং এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয় যে এ বিষয়ে কোনো ফিকহি মতভেদ নেই। Hanafi মাজহাবের দৃষ্টিতে কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব মৃতের জন্য ঈছাল করা বৈধ।
মৃতের আমল বন্ধ হয়ে যায় এই হাদিসের ব্যাখ্যা কী?
সহিহ মুসলিমে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন।
মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকার লাভ করা হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৩১
এ হাদিসকে কেউ কেউ ঈছালে ছাওয়াবের বিরোধী দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু Hanafi আলেমদের ব্যাখ্যায় এখানে মৃত ব্যক্তির নিজের আমল বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্য কোনো জীবিত ব্যক্তি তার জন্য দোয়া করলে বা তার পক্ষ থেকে নেক কাজ করলে তার বিধান আলাদা।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করার বিষয়ে সহিহ হাদিস থাকার কারণে এ দুটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়।
এখন মূল প্রশ্ন: ঈছালে ছাওয়াবের বিনিময়ে টাকা নেওয়া যাবে কি?
এখানেই বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
একজন ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে কুরআন তিলাওয়াত করলেন, তারপর আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যে এর সওয়াব কোনো মৃত ব্যক্তিকে পৌঁছে দেওয়া হোক। এটি Hanafi ফিকহ অনুযায়ী বৈধ।
কিন্তু কেউ যদি কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য এক খতম কুরআন পড়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট টাকা গ্রহণ করেন, তাহলে এটি সাধারণ ঈছালে ছাওয়াবের বিষয় থাকে না। এখানে কুরআন তিলাওয়াতকে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে করানো হচ্ছে।
Hanafi ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের ব্যাপারে কঠোরতা রয়েছে।
Hanafi ফিকহে কুরআন তিলাওয়াতের পারিশ্রমিক
ইবনু আবিদিন (রহ.)-এর রদ্দুল মুহতার-এর আলোচনায় কুরআন তিলাওয়াতের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে পৃথক করা হয়েছে।
পরবর্তী যুগে প্রয়োজনের কারণে কুরআন শিক্ষা, ফিকহ শিক্ষা, আজান ও ইমামতির মতো কিছু কাজের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই অনুমতিকে সাধারণ কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা ঠিক নয়।
রদ্দুল মুহতার-এর আলোচনার সারকথা হলো, কুরআন শেখানোর জন্য পারিশ্রমিকের বিষয়ে পরবর্তী Hanafi আলেমদের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু শুধু কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়টি তার অন্তর্ভুক্ত নয়।
অতএব, মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন পড়ে নির্ধারিত টাকা নেওয়াকে কুরআন শিক্ষাদানের পারিশ্রমিকের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না।
টাকা দিয়ে কাউকে কুরআন খতম করানো
বর্তমানে কোথাও কোথাও এমন ব্যবস্থা দেখা যায় যে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একজন হাফেজ বা কারিকে নির্দিষ্ট টাকা দেওয়া হয় এবং তিনি মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করেন।
Hanafi ফিকহের আলোকে আগে থেকে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন তিলাওয়াত করানো জায়েজ নয়।
এখানে সমস্যা ঈছালে ছাওয়াবের ধারণায় নয়। সমস্যা হলো নেক আমলটি অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ করা।
বিনা পারিশ্রমিকে কুরআন পড়া এবং তার সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করা বৈধ।
অন্যদিকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কুরআন পড়ার চুক্তি Hanafi ফিকহে বৈধ নয়।
তিলাওয়াতের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাদিয়া দিলে কী হবে?
এখানে নিয়ত ও পূর্বশর্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং আগে থেকে কোনো পারিশ্রমিকের শর্ত না থাকে, এরপর কেউ নিজের ইচ্ছায় তাকে একটি উপহার দেয়, তাহলে সেটিকে আগে থেকেই নির্ধারিত কুরআন তিলাওয়াতের পারিশ্রমিক হিসেবে দেখা হবে কি না, তা পরিস্থিতি ও প্রচলিত রীতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
কোনো এলাকায় যদি সবাই জানে যে কুরআন পড়লে নির্দিষ্ট টাকা দেওয়া হবে, তাহলে শুধু মুখে চুক্তি হয়নি বলে সেটিকে স্বতঃস্ফূর্ত হাদিয়া বলা নিরাপদ নয়।
তাই সন্দেহপূর্ণ পরিস্থিতি এড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াতকে পারিশ্রমিকের মাধ্যম না বানানোই উত্তম।
প্রচলিত খতম ও খাবারের আয়োজন
কুরআন খতমের পর খাবার বা মিষ্টি বিতরণকে যদি কুরআন পড়ার বিনিময় বা আবশ্যিক ধর্মীয় রীতি হিসেবে ধরা হয়, তাহলে বিষয়টি সমস্যামুক্ত থাকে না।
Hanafi ফতোয়া-সাহিত্যে এমন আয়োজনকে সুন্নাহ বা আবশ্যিক ধর্মীয় রীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সমর্থন পাওয়া যায় না। বিশেষ কোনো দিন বা নিয়মকে শরিয়তের আবশ্যিক বিধান মনে করাও ঠিক নয়।
ঈছালে ছাওয়াব করতে চাইলে নিজের সাধ্য অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তিগফার ও সদকা করা যেতে পারে।
ঈছালে ছাওয়াবের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি কী?
মৃত বাবা-মা বা আত্মীয়ের জন্য একজন মুসলিম নিজে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন এবং শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন।
হে আল্লাহ, আমি যে কুরআন তিলাওয়াত করেছি তার সওয়াব অমুক মৃত ব্যক্তিকে পৌঁছে দিন।
এছাড়া মৃতের পক্ষ থেকে সদকা করাও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
বিশেষ করে দরিদ্রকে খাবার দেওয়া, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে সাহায্য করা বা কোনো কল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা, এসবের মাধ্যমে মৃতের জন্য সওয়াবের আশা করা যায়।
তবে কোনো নির্দিষ্ট সূরা, নির্দিষ্ট দিন বা নির্দিষ্ট সংখ্যাকে শরিয়ত কর্তৃক বাধ্যতামূলক মনে করা যাবে না, যদি তার জন্য নির্ভরযোগ্য দলিল না থাকে।
প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা
১. ঈছালে ছাওয়াব জায়েজ, তাই টাকা দিয়ে করালেও জায়েজ
এ দুটি এক বিষয় নয়। ঈছালে ছাওয়াবের বৈধতা এবং কুরআন তিলাওয়াতের পারিশ্রমিক দুটি আলাদা ফিকহি প্রশ্ন।
২. টাকা দিলেই বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে
এমন ধারণার কোনো নির্ভরযোগ্য শরয়ি ভিত্তি নেই।
৩. হাফেজকে টাকা না দিলে তিনি পড়বেন না, তাই টাকা দেওয়া আবশ্যক
কাউকে পারিশ্রমিক দেওয়ার সামাজিক প্রয়োজন থাকলেও সেটিকে কুরআন তিলাওয়াতের শরয়ি পারিশ্রমিক হিসেবে নির্ধারণ করা আলাদা বিষয়।
৪. ঈছালে ছাওয়াব করা বিদআত, তাই মৃতের জন্য কুরআন পড়া যায় না
Hanafi মাজহাবের অবস্থান এমন নয়। Hanafi ফকিহরা নেক আমলের সওয়াব অন্যের জন্য দান করার বৈধতা স্বীকার করেছেন।
৫. মৃতের জন্য শুধু সদকাই করা যায়
এটিও Hanafi অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। Hanafi ফিকহে কুরআন তিলাওয়াতসহ নেক আমলের সওয়াব দানের অনুমতি রয়েছে।
বাস্তব জীবনে কী করা উচিত?
কোনো আত্মীয় মারা গেলে তার জন্য ঈছালে ছাওয়াব করতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। এরপর মৃতের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা যায়।
সামর্থ্য থাকলে তার পক্ষ থেকে সদকা করা আরও স্পষ্টভাবে হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আমল।
আর কোনো হাফেজ বা কারিকে কুরআন পড়ার জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থা না করাই Hanafi ফিকহের নিরাপদ ও শক্তিশালী অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কারও নির্দিষ্ট পারিবারিক বা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত পরিস্থিতি থাকলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছে পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে ফতোয়া নেওয়া উত্তম।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ
ঈছালে ছাওয়াবের মূল ধারণা Hanafi ফিকহে বৈধ।
মৃতের পক্ষ থেকে সদকা করার বিষয়টি সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
Hanafi মাজহাব অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির জন্য দান করা যায়।
কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে আগে থেকে নির্ধারিত পারিশ্রমিক নেওয়া আলাদা বিষয়।
Hanafi ফিকহে সাধারণ কুরআন তিলাওয়াতের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ নয়।
কুরআন শিক্ষা ও কুরআন তিলাওয়াতের পারিশ্রমিককে একই বিধানের অধীন করা যাবে না।
ঈছালে ছাওয়াবের জন্য নিজে কুরআন পড়া, দোয়া করা এবং মৃতের পক্ষ থেকে সদকা করা উত্তম ও নিরাপদ পদ্ধতি।
কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সামাজিক রীতিকে শরিয়তের আবশ্যিক বিধান মনে করা উচিত নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. ঈছালে ছাওয়াব কি জায়েজ?
হ্যাঁ। Hanafi মাজহাব অনুযায়ী কোনো নেক আমলের সওয়াব অন্য মুসলিমের জন্য দান করা জায়েজ।
২. মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন পড়া যাবে কি?
Hanafi মাজহাব অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির জন্য দান করা যায়।
৩. মৃতের জন্য কুরআন পড়ে টাকা নেওয়া যাবে কি?
Hanafi ফিকহের শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অবস্থান অনুযায়ী সাধারণ কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে নির্ধারিত পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে না।
৪. কাউকে টাকা দিয়ে কুরআন খতম করালে কী হবে?
আগে থেকে টাকা নির্ধারণ করে কুরআন তিলাওয়াত করানো Hanafi ফিকহ অনুযায়ী বৈধ নয়। ঈছালে ছাওয়াব করতে চাইলে নিজে তিলাওয়াত করা বা বিনা পারিশ্রমিকে কেউ তিলাওয়াত করে সওয়াব দান করা যেতে পারে।
৫. কুরআন শিক্ষকের বেতন এবং কুরআন তিলাওয়াতের পারিশ্রমিক কি একই?
না। Hanafi ফিকহের পরবর্তী আলেমরা প্রয়োজনের কারণে কুরআন শিক্ষা ও কিছু ধর্মীয় দায়িত্বের জন্য পারিশ্রমিকের অনুমতি দিয়েছেন। এটিকে সাধারণ কুরআন তিলাওয়াতের পারিশ্রমিকের সঙ্গে এক করা ঠিক নয়।
৬. কুরআন পড়ার পর কাউকে হাদিয়া দেওয়া যাবে কি?
যদি আগে থেকে পারিশ্রমিকের শর্ত না থাকে এবং সত্যিই তা স্বতঃস্ফূর্ত হাদিয়া হয়, তাহলে বিষয়টি নির্ধারিত পারিশ্রমিকের মতো নয়। তবে সামাজিকভাবে যদি এটি প্রচলিত নির্ধারিত বিনিময়ে পরিণত হয়, তাহলে সতর্ক থাকা জরুরি।
৭. মৃতের জন্য ঈছালে ছাওয়াব করার সহজ পদ্ধতি কী?
নিজে কুরআন তিলাওয়াত করে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব দানের দোয়া করা যায়। পাশাপাশি তার পক্ষ থেকে সদকা ও মাগফিরাতের দোয়া করা যায়।
References
আল-কুরআন, সূরা আল-হাশর, ৫৯:১০।
আল-কুরআন, সূরা আন-নাজম, ৫৩:৩৯।
সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, হাদিস ২৭৬০।
সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, হাদিস ২৭৬২।
সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুল জানায়িজ, হাদিস ১৩৮৮।
সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ওয়াসিয়্যাহ, হাদিস ১৬৩১।
আল-মারগিনানি, আল-হিদায়া।
আল-কাসানি, বাদায়েউস সানায়ে।
ইবনু আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যাহ।
Darul Ifta Birmingham-এর Hanafi ফতোয়া।
Darul Uloom Deoband-এর Hanafi ফতোয়া।