গুনাহ মানুষের জীবনের অনিবার্য বাস্তবতা। কোনো মানুষই গুনাহমুক্ত নয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম দয়ায় এমন কিছু আমলের ব্যবস্থা রেখেছেন যেগুলো নিয়মিত করলে গুনাহ মুছে যায় এবং আমলনামা পরিষ্কার হয়।
গুনাহ মুছে যাওয়ার বিষয়ে কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
"নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহকে মুছে দেয়। এটি স্মরণকারীদের জন্য উপদেশ।" (সূরা হুদ: ১১৪)
এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট যে সৎ আমল করলে গুনাহ মিটে যায়। এখন প্রশ্ন হলো কোন আমলগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
প্রথম আমল — পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে প্রতিদিন পাঁচবার পরিষ্কার করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا مَا تَقُولُ ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ قَالُوا لاَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ شَيْئًا قَالَ فَذَلِكَ مِثْلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهَا الْخَطَايَا
"তোমরা বলো যদি কারো ঘরের সামনে একটি নদী থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবারা বললেন না কোনো ময়লা থাকবে না। তিনি বললেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ এরকমই আল্লাহ এর মাধ্যমে গুনাহ মুছে দেন।" (সহিহ বুখারি: ৫২৮)
দ্বিতীয় আমল — জুমার নামাজ
জুমার নামাজ দুই জুমার মধ্যবর্তী সমস্ত গুনাহ মুছে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ
"পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এক জুমা থেকে পরের জুমা এবং এক রমজান থেকে পরের রমজান মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয় যদি কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকা হয়।" (সহিহ মুসলিম: ২৩৩)
তৃতীয় আমল — রমজানের রোজা ও তারাবি
রমজান মাসের রোজা এবং তারাবির নামাজ পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মুছে দেয়। হাদিসে এসেছে:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (সহিহ বুখারি: ৩৮)
এবং তারাবির ক্ষেত্রে:
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের ইবাদত করে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (সহিহ বুখারি: ৩৭)
চতুর্থ আমল — হজ
হয়ে ফেরে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন।" (সহিহ বুখারি: ১৫২১)
পঞ্চম আমল — ইস্তিগফার ও তওবা
সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী আমল হলো তওবা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا
"যে কেউ মন্দ কাজ করে বা নিজের ওপর যুলুম করে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু পাবে।" (সূরা নিসা: ১১০)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ
"যে ব্যক্তি বলবে আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই যিনি চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করি তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৭)
আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ
"আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয় যদিও তা পরিমাণে কম হোক।" (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৪)
এই পাঁচটি আমল যদি কেউ নিয়মিত পালন করে তাহলে ইনশাআল্লাহ তার গুনাহ মুছে যেতে থাকবে এবং সে আল্লাহর রহমতের ছায়ায় থাকবে।
আরও পড়ুন:
