যে সকল ওজরের কারণে রোযা ভঙ্গ করা বৈধ


ইসলাম স্বভাবজাত ধর্ম। ইসলাম মানুষকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের আদেশ দেয় না। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি অত্যান্ত দয়ালু। ফলে রোযা রাখার কারণে মানুষের কষ্ট হলে, কিংবা ক্ষতি হলে, রোযা ভাঙ্গার এবং অন্য সময় তা কাযা করার অনুমতি দিয়েছেন।

আমরা আমাদের এ পোস্টটির মাধ্যমে যে সকল বিষয় জানতে পারবো:--

  • যে সকল ওযরের কারণে রোযা ভাঙ্গা বৈধ সে সম্পর্কে জানবো ইনশা-আল্লাহ।
  • রোযাদারের জন্য মুস্তাহাব বিষয়।
  • মানত পূরণ করা কখন ওয়াজীব?

নিন্মোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে রোযা ভাঙ্গা জায়েয আছে। যথা-

১. অসুস্থ ব্যক্তির জন্য।যদি  রোযা তার ক্ষতি করে কিংবা রোযার কারণে রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার বা রোগ দির্ঘায়িত হওয়ার আশংকা থাকে।

২. ঐ মুসাফিরৈর জন্য, যে দীর্ঘপথ সফর করবে এবং তাতে নামায কসর করার বিধান রয়েছে।

৩. ঐ ব্যক্তির জন্য যার ভিষণ ক্ষুধা কিংবা প্রচন্ড পিপাসা লেগেছে এবং রোযা না ভাংলে প্রাণহানির প্রবল আশংকা করছে।

৪. গর্ভবতী মহিলার জন্য। যদি রোযা তার কিংবা তার গর্ভস্ত সন্তানের ক্ষতি করে।

৫. স্তন্য দানকারিনী ধাত্রীর জন্য। যদি রোযা তার ও তার দুগ্ধপোষ্য  শিশুর ক্ষতি করে।

৬. হায়েজ-নেফাসগ্রস্থ মহিলার জন্য। বরং তাদের রোযা ভাঙ্গা ওয়াজীব। কারণ তাদের রোযা শুদ্ধ হবে না।

৭. রোযা রাখতে অক্ষম এমন অতিশয়  বৃদ্ধের জন্য। বার্ধক্যের কারণে  রোযা রাখা লাগবে না, বরং তার ফিদয়া দিতে হবে।

৮. যে ব্যক্তি নফল রোযা রেখেছে তার জন্য বিনা ওজরে রোযা ভাঙ্গা জায়েজ আছে। তবে অন্য দিন সে রোযা আদায় করে নেয়া তার উপর ওয়াজীব।

৯. যে ব্যক্তি শত্রæর সঙ্গে যুদ্ধরত তার জন্য রোযা ভাঙ্গা জায়েয আছে। যার জিম্মায় কাযা রোযা রয়ে গেছে তার জন্য তাড়াতাড়ি কাযা আদায় করে নেয়া মুস্তাহাব। অবশ্য কাযা আদায়ে বিলম্ব করাও জায়েয আছে। তদ্রæপ তার জন্য কাযা রোযাগুলো একসাথে রাখা কিংবা পৃথকভাবে রাখা উভয়টা জায়েয আছে। যদি কাযা আদায়ে এত বিলম্ব করে যে, দ্বিতীয় রমযান এস গেছে তাহলে কাযা রোযার পূর্বে দ্বিতীয় রমযানের রোযা আদায় করে নিবে। কাযা আদায়ে বিলম্ব করার ফিদয়া দেয়া লাগবে না।

আরও পড়ুন: রোযা সম্পর্কে যা জানা জরুরী

রোযাদারের জন্য মুস্তাহাব বিষয়

রোযাদ্বারের রোযা থেকে পরিপূর্ণ উপকার ও সওয়াব লাভের জন্য রোযার ওয়াজীব পালনের সাথে সাথে আরও কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেয়া জরুরী। যেগুলোকে আমরা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত বলে জেনে থাকি। 

নিন্মোক্ত বিষয়গুলো রোযাদ্বারের জন্য মুস্তাহাব

১.সাহরী খাওয়া।

২. বিলম্বে সাহরী খাওয়া। তবে সন্দেহ এড়ানোর জন্য সুবহে সাদিকের কয়েক মিনিট পূর্বে পানাহার ত্যাগ করতে হবে।

৩. সূর্য অস্ত যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর জলদি করে ইফতার করা।

৪. ফজর হওয়ার পূর্বেই ফরজ গোসল সেরে নেওয়া, যাতে পবিত্রতার সাথে ইবাদত করা যায়।

৫. মিথ্যা, পরনিন্দা, কোটনামি ও গালিগালাজ থেকে বাক সংযম অবলম্বন করা।

৬. রমযানের সময়গুলোকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে কোরআন তেলাওয়াত ও হাদীসে বর্ণিত দোয়া পাঠে মশগুল থাকা।

৭. রাগান্বিত না হওয়া এবং তুচ্ছ বিষয়ে উত্তেজিত না হওয়া।

৮. কামনা-বাসনা ও প্রবৃত্তিসমূহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। যদিও তা বৈধ হয়।

আরও পড়ুন: রোযার কাযা ও কাফফারা কখন আদায় করা ওয়াজীব

মানত পূর্ণ করা কখন ওয়াজীব?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, 

من نذر أن يطيع الله فليطعه ومن نذر أن يعصيه فلا يعصه

যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করার মানত করেছে সে যেন তার আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি করার মানত করেছে সে যেন আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী  না করে। (বুখারী)

তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে মানত পূরণ করা ওয়াজীব। যথা-

১. মানত কৃত ইবাদতের শ্রেণীভুক্ত কোন ওয়াজীব থাকা। যথা রোযা ও নামাজ।

২. মানতকৃত বিষয় উদ্দিষ্ট ইবাদত হওয়া।

৩. মানত করার পূর্বেই মানতকৃত বিষয় ওয়াজীব না থাকা। অতএব গোলাম আজাদ করা, এতেকাফ করা, ফরজ বিহীন নামায ও রোযার মানত করা শুদ্ধ হবে না। কেননা তা উদ্দিষ্ট ইবাদত নয়। অনুরুপ তেলাওয়াতে সেজদার মানত শুদ্ধ হবে না। কেনান তা মানত করার পূর্ব থেকেই ওয়াজীব আছে। অনুরুপ রোগী দেখার মানত করা শুদ্ধ হবে না। কেননা তার সমশ্রেণীর কোন ওয়াজীব নেই। যদি দুই ঈদে বা তাকবীরে তাশরিকের দিনগুলোতে রোযা রাখার মানত করে তাহলে মানত সহীহ হবে। তবে এই দিনগুলোতে রোযা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে রোযা ভেঙ্গে ফেলা এবং পরবর্তীতে তার কাযা আদায় করে নেওয়া ওয়াজীব হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রোযার বিধানাবলী জেনে পরিপূর্ণ রোযার সওয়াব অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

[বি.দ্র: লেখার মধ্যে যদি কোন ভুল-ত্রুটি আপনাদের দৃষ্টিতে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে আমাকে অবগত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।]

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post