রোযার কাযা ও কাফফারা কখন আদায় করা ওয়াজীব।






নিন্মোক্ত বিষয়গুলোর কারণে রোযা নষ্ট হবে না

   .ভুলে আহার করলে

   .ভুলে পান করলে

   .ভুলে স্ত্রী সহবাস করলে

   .তেল মালিশ করলে

   .চোখে সুরমা ব্যবহার করলেযদিও গলায় তার স্বাদ অনুভূত হয়

   .রক্ত মোক্ষণ করলে

   .কারো গীবত (পরনিন্দা) করলে

   . রোযা ভাঙ্গার নিয়ত করে না ভাংলে

   .রোযাদারের ক্রিয়া ছাড়াই গলায় ধূলাবালি ইত্যাদি প্রবেশ করলে, যদিও তা যাতা কলের ধূলা হয়

   ১০.রোযা দ্বারের ক্রিয়া ছাড়াই গলায় ধুয়া প্রবেশ করলে

   ১১.গলায় মাছি ঢুকলে

   ১২.রোযাদার গোসল ফরজ অবস্থায়  সকাল করলেতদ্রুপ রোযাদার  সারাদিন অপবিত্র অবস্থায় থাকলেও রোযা নষ্ট হবে নাকিন্তু ফরজ নামাজ ত্যাগ করার কারণে ধরনের কাজ হারাম হবে

   ১৩.পানিতে ডুব দেওয়ার ফলে কানে পানি প্রবেশ করলে

   ১৪.নাকে শ্লেষ্মা প্রবেশ করার পর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা টেনে নেয় কিংবা  গিলে ফেলে

   ১৫.যদি বমির প্রবল  বেগ হয় এবং রোযাদ্বারের কর্ম ছাড়াই তা ভিতরে ফেরত আসে বমির পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক

   ১৬.যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে কিন্তু বমি মুখ ভর্তি পরিমানের চেয়ে কম হয় এবং কোন কর্ম ছাড়াই ভিতরে ফেরত যায়

   ১৭.যদি দাঁতের ফাকে লেগে থাকা খাদ্য খেয়ে নেয়আর সেই  আহারকৃত খাদ্যের পরিমাণ ছোলা বাবুটের দানার চেয়ে কম হয়

   ১৮.যদি বাহির থেকে তিলের মত ক্ষ্রদ্র কোন জিনিস মুখে নিয়ে চিবায় এবং  তা বিলিন হয়ে যায়, কিন্তু গলায় তার স্বাদ অনুভব না করে

   ১৯.ইঞ্জেকশন দেওয়ার কারণে রোযা নষ্ট হবে না তাই তা চামড়ার দেয়া হোক কিংবা রগে

   ২০.কোন কাঠি দ্বারা কান খোঁচানোর ফলে যদি কাঠির সঙ্গে ময়লা বের হয় এবং সেই ময়লাযুক্ত কাঠি  বারবার কানের ভিতর প্রবেশ করায়

রোযার কাযা ও কাফফারা কখন ওয়াজীব হবে?

নিন্মোক্ত কারণে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাযা ও কাফফারা  উভয়টা ওয়াজীব হবে।

১. যদি এমন খাদ্য আহার করে যার দিকে মন আকৃষ্ট হয় এবং  তা দ্বারা পেটের চাহিদা পূরণ হয়।

২. যদি শরীয়ত সম্মত ওযর ছাড়া ঐষধ সেবন করে।

৩. যদি পানি বা অন্য কোন পানীয় দ্রব্য পান করে।

৪. যদি স্ত্রী সহবাস করে।

৫. যদি মুখে প্রবেশকারী বৃষ্টির ফোটা গিলে ফেলে।

৬. যদি দাঁতে ভেঙ্গে গম খেয়ে ফেলে ।

৭. যদি দাঁতে ভাঙ্গা ছাড়া গমের বিচি গিলে ফেলে।

৮. যদি মুখের বাহির থেকে তিল বা অনুরুপ কোন জিনিসের বিচি গিলে ফেলে।

৯. যদি সামান্য পরিমাণ লবণ আহার করে।

১০. যদি ধুমপান করে কিংবা হুক্কা খায়।

১১. যদি মাটি খায় এবং মাটি খেতে সে  অভ্যাস্ত হয়। কিন্তু যদি মাটি খাওয়া তার অভ্যাস না হয় তাহলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না। 

 কাফফারা ওয়াজীব হওয়ার শর্তসমূহ

নিন্মোক্ত শর্তসমূহ পাওয়া না গেলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

১. যদি রমযান মাসে রোযা আদায় কালে পানাহার করে। অতএব  রমযান মাস ব্যতীত অন্য সময় রোযা রেখে পানাহার করলে কাফফারা  ওয়াজীব হবে না। তদ্রুপ  রমজানের কাযা রোযা আদায় করার সময় পানাহার করলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

২. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে। অতএব ভুলে পানাহার করলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

৩. যদি পানাহার করতে নিরুপায় না হয়। অতএব  নিরুপায় হয়ে পানাহার করলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

৪. যদি ভুলবশত পানাহার না হয়। অতএক রাত্র বাকি থাকার কিংবা সূর্য অস্ত যাওয়ার ধারণায় যদি ভুলবশত পানাহার করে, আর পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে, দিবসে আহার করেছে  তাহলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

৫. যদি পানাহারে বাধ্য করা না হয়। সুতরাং পানাহারে বাধ্য করা হলে কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

কাফফারার পরিচয়

 যে কাফফারা সম্পর্কে একটু পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে তা হলো-

১. একজন মুসলমান কিংবা অমুসলমান গোলাম আযাদ করা।

২. বিরতিহীন দুমাস রোযা রাখা, এর মাঝে ঈদের দিন ও  তাশরীকের দিনগুলো ( অথ্যাৎ কোরবানীর তিনদিন) থাকতে পারবে না। 

৩. রোযাদার সাধারণত যে ধরণের খাবার খেয়ে থাকে তার মধ্যম ধরণের খাবার ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ানো। এই ধারাবাহিকতা অনুসারে কাফফারা ওয়াজীব হয়। যে ব্যক্তি গোলাম আজাদ করার সামর্থ্য রাখে না, সে  অনবরত দুইমাস  রোযা রাখবে। যদি তা না পারে তাহলে ষাটজন দরিদ্রকে খানা খাওয়াবে। প্রত্যেক দরিদ্রকে দুবেলা পেট ভরে খাওয়াবে। তবে মিসকীনদেরে মাঝে এমন কেউ থাকতে পারবে না যাদের ভোরণ-পোষণ করা তার উপর ওয়াজীব।যেমন মাতা-পিতা, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী। যদি মিসকীনদেরকে খাবারের পরিবর্তে শস্য দিতে চায় তাহলে প্রত্যেক মিসকীনকে আধা 'সা' গম কিংবা আধা 'সা' গমের  আটা কিংবা আধা সা গমের মূল্য, কিংবা এক সা যব বা খেজুর কিংবা এক সা যব অথবা এক সা খেজুরের মূল্য প্রদান করতে  হবে।

বি.দ্র: 'সা':  এক সা হলো ৩ কেজি ২৬৪ গ্রাম, সোয়া তিন কেজির সামান্য বেশি। রোযা কখন কাফফারা ব্যতীত কাযা করা ওয়াজীব

নিন্মোক্ত স্থানগুলোতে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাযা ওয়াজীব হবে। কিন্তু কাফফারা ওয়াজীব হবে না।

১. রোযাদার যদি শরীয়ত সম্মত কোন অসুবিধার কারণে রোযা ভাঙ্গে। যেমন সফরে থাকা  অসুস্থ হওয়া, গর্ভবর্তী হওয়া, স্তন্য দান করা, হায়েজ- নেফাসগ্রস্ত হওয়া, অজ্ঞান হওয়া,মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটা ইত্যাদি।

২. রোযাদার যদি এমন কোন জিনিস আহার করে যা সাধারণত  খাওয়া হয় না এবং তার  মাধ্যমে ক্ষুধাও নিবারণ হয় না।    যেমন ঔষধ ( যখন শরীয়ত সম্মত কোন ওজরে  সেবন  করবে), আটা, খামির, একবারে অনেক লবণ খাওয়া, তুলা, কাগজ, আঁটি, কাঁদা, মাটি (শর্ত হলো যদি মাটি খাওয়াতে অভ্যাস্ত না হয়)ইত্যাদি।

৩. রোযাদার যদি নিন্মোক্ত জিনিসগুলোর কোন একটি গিলে  ফেলে। যেমন, কংকর, লোহা, পাথর, সোঁনা, চাঁদি ও তামা  ইত্যাদি। 

৪. যদিপানাহার করতে বাধ্য করার পর পানাহার করে।

৫. রোযাদার যদি অনন্যোপায় হয়ে পানাহার করে।

৬. রাত্র বাকি থাকার কিংবা সূর্য অস্ত যাওয়ার ভুল ধারণা বশত আহার করার পর যদি প্রকাশ পায় যে, তখন ভোর হয়ে গিয়েছিল কিংবা তখনও সূর্য অস্ত যায়নি।

৭. যদি কুলি করার ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করার ফলে পেটে পানি চলে যায়।

৮. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে। আর তা মুখ ভর্তি পরিমাণ হয়।

৯. যদি গলার ভিতর বৃষ্টির ফোটা বা বরফ ঢুকে যায়, আর সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা না গিলে থাকে।

১০. যদি রমযান মাস ব্যতীত অন্য সময় রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলে।

১১. যদি স্বেচ্ছায় গলার ভিতর ধোঁয়া প্রবেশ করায়।

১২. যদি দাঁতের ফাঁকে ছোলা বা বুটের দানা পরিমাণ লেগে থাকা খাদ্য গিলে ফেলে।

১৩. ভুলে যাওয়ার পর যদি স্বেচ্ছায় খায়।

১৪. যদি রাতে রোযার নিয়ত না করে দিবসে রোযার নিয়ত করার পর খায়।

১৫. যদি মুসাফির অবস্থায় সকাল করে। অতঃপর ইকামতের নিয়ত করার পর আহার করে।

১৬. যদি মুকীম অবস্থায় সকাল করে। অতঃপর সফরে রওনা হয়ে আহার করে।

১৭. যদি রোযা রাখা বা না রাখার নিয়ত ছাড়া সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকে।

১৮. যদি কানের ভিতর তেল কিংবা পানির ফোটা দেয়।

১৯. যদি নাকের ভিতর ঔষুধ প্রবেশ করায়।

২০. যদি পেটের কিংবা মস্তিষ্কের কোন ক্ষতে ঔষধ ব্যবহার করে, আর তা উদর পর্যন্ত পৌছে যায়। যদি উপরোক্ত কোন একটি কারণে রমযানের দিবসে রোযা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে রমযান মাসের সম্মানার্থে অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ইহার উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।।




Post a Comment (0)
Previous Post Next Post