বিপদাপদ বা মসিবত দূর করার উদ্দেশ্যে ছাগল/গরু জবাই করা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া
রহমাতুল্লাহ,
আশা করি আল্লাহর রহেমতে
সবাই ভাল আছেন।মানব জীবনে শারীরিকভাবে দুইটি পর্যায় আছে, একটি সুস্থতা অপরটি অসুস্থতা।
সুস্থ থাকাকালীন সাধারণভাবে মানুষ তাদের শরীর সম্পর্কে খুব একটা সচেতন থাকে না। যখন
অসুস্থ হয় তখন বিভিন্ন ধরনের চিকিrসা
করে থাকে, এটাই স্বাভাবিক। যখন বিভিন্ন রকম চিকিrসা করার পরও মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠে না তখন যে সমস্ত
মানুষ ধার্মিক তারা ধর্মীয় ভিত্তিতে চিকিrসা
নিতে বেশ আগ্রহী হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় যখন কোন মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে বা কঠিন কোন
মসিবতের সম্মুখিন হন তখন আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, জানের বদলায় জান দিয়ে দেয়া।
অথ্যা
r কোন প্রাণীকে যবেহ করাকে মসিবত দূর করার উপকরণ
ভেবে সদকার নিয়তে কোন প্রাণী জবেহ করে গোশ্তকে গরীব, ফকীরদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া। এখন
আমাদের জানার বিষয় হলো এরকম করা শরীয়ত সম্মত কি না? বা এরকম ভাবা শরীয়ত সমর্থিত কিনা?
হাদীসের মধ্যে এসেছে সদকার
দ্বারা বালা মসিবত দূরীভূত হয়। এ কারণে সদকাকে বিপদাপদ দূর করার কারণ ভাবা জায়েয এবং
শুদ্ধ। কিন্তু কোন প্রাণীকে যবেহ করার নাম সদকা নয়। বরং সদকা বলা হয় ফকীর বা মুখাপেক্ষীদের
জরুরত পূরণ করার নাম। এবং কুরবানী, আকিকা ব্যতীত অন্য কোন স্থানে যবেহ করাকে ইবাদত
মনে করা বা বিপদাপদ দূর করার ভাবা জায়েয নাই। কুরআন, হাদীস,ফিক্বাহ, সাহাবায়ে কেরাম
ও আইম্মায়ে মুজতাহিদ্বীনগণের মধ্যে কারও থেকে স্বত্তাগত যবেহ কে বিপদাপদ দূর করার কারণ
ভাবার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং এটা ইবাদতহীন বিষয়কে ইবাদত মনে করা যা কোনক্রমেই
জায়েয নাই।এটির মধ্যে আক্বিদার কঠিন খারাবী রয়েছে। এই কারণে যবেহ করাকে বিপদাপদ দূর
করার কারণ মনে করা কোনভাবেই জায়েয নাই এবং এ আক্বীদা নিয়ে যবেহ করাও জায়েয হবে না।
দলীলসমূহ:
عن أنس بن مالك قال : قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الصدقة
لتطفى ، غضب الرب وتدفع ميتة السوء (সুনানে তীরমিযী )
ফাতওয়ায়ে শামী ৬/৪৪৯(যাকারিয়া) ৬/৩০৯ করাচী
