নামাজের মধ্যে মোবাইল ফোন বন্ধ করার শরয়ী হুকুম
আজকাল সাধারণভাবে সবার কাছে মোবাইল ফোন থাকে। কখনো কখনো নামাজের মধ্যে মোবাইলের রিং বেজে উঠে, যার কারণে নামাজের একাগ্রতার মধ্যে ব্যাঘাত ঘটে। যদি কোন ব্যক্তি এরুপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তাহলে ঐ অবস্থায় তার কি করা উচিত? বা ইসলামী শরীয়ত এ ব্যপারে কি বলে??
এ কথা জানা জরুরী যে, ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট করেছেন যে নামাজের মধ্যে আমলে কলীল বা অল্প আমল দ্বারা নামাজ নষ্ট হয় না। আমলে কাছীর বা বেশি আমল দ্বারা নামাজ ভেঙ্গে যাবে। আমলে কলীল এবং আমলে কাছীরের সংজ্ঞার ব্যপারে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মত রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা হল:
১. নামাজের মধ্যে এরকম কোন কাজ করা যা দেখে অন্য কেউ ভাবে যে সে নামাজের মধ্যে নেই তাহলে সেটা আমলে কাছীর আর যে আমল এরুপ নয় তা আমলে কলীল।
২. যে কাজ সাধারণত দুই হাত দ্বারা করা হয় তা আমলে কাছীরের অন্তর্ভুক্ত আর যে কাজ এক হাত দ্বারা করা হয় তা আমলে কলীল। যেমন পাগড়ী বাঁধা এমন কাজ যা দুই হাত দ্বারা করা হয় তাই এটি আমলে কাছীর। যদি কোন ব্যক্তি এক হাত দ্বারা পাগড়ী বাঁধে তাহলেও সেটা আমলে কাছরের অন্তর্ভুক্ত হবে।
৩. নামজের কোন রোকনের মধ্যে তিনবার ‘সুবহানা রব্বি আল-আলা“ বলার সমপরিমাণ বা তার থেকেও কম সময়ের মধ্যে একাধারে তিন বার আমলে কলীল করলেও আমলে কাছীর হয়ে যায় এবং নামাজ ভেঙ্গে যায়।
আমলে কলীল ও আমলে কাছীরের সংজ্ঞা স্পষ্ট হওয়ার পর উল্লিখিত মাসআলার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম নামাজিকে নামাজ শুরু করার পূর্বে গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করা উচিত যেন একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করতে পারে। যদি পরিপূর্ণ বন্ধ না করে তাহলে কমপক্ষে রিংটোন বন্ধ রাখে বা সাইলেন্ট মুডে রাখে। অনুরুপ ভাবে সকল মুসলমানের উচিত রিংটোনে গান বা অন্যান্য কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবয় সাধাসিধা কোন রিংটোন ব্যবহার করা। যদি কোন নামাজী মোবাইলের রিং বন্ধ করতে ভুলে যায় বা নামাজ শুরুর পর রিং বেজে উঠে তখন তার করণীয় কী??? নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হল।
১. এক হাত পকেটে দিয়ে যদি মোবইল বন্ধ করা সম্ভব হয় তাহলে সেটাই করবে। মোবাইল পকেট থেকে বের করা উচিত হবে না। আর যদি এক হাত দিয়ে মোবইল বন্ধ করা সম্ভব না হয় এবং এক হাত দিয়ে মোবাইল বের করে বন্ধ করতে পারে তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে মোবাইল পকেট থেকে বের করে বন্ধ করবে। এরকম করার দ্বারা নামাজ ভাঙবে না কিন্তু মাকরুহ হবে। তদুপরি সকল নামাজির নামাজে বিঘœ ঘটা এবং পুরা মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করার চেয়ে উত্তম হলো নিজের নামাজকে মাকরুহ করে মোবাইলে রিং বন্ধ করা। এ অবস্থায় এটা লক্ষ রাখা জরুরী যে পকেট থেকে মোবাইল বের করা এবং বন্ধ করার অনুমতি শুরু মোবইলের রিং বন্ধ করা জন্য এজন্য নয় যে, সে মোবাইল দেখা শুরু করবে এব কে কল দিয়েছে তা দেখবে বা কে মেসেজ দিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধুমাত্র দ্রæত মোবাইল বের ক রে বন্ধ করতে পারবে এটা ব্যতীত অন্য কিছু দেখার অনুমতি নেই।
২. যদি মোইলকে পকেট থেকে বের করে দুই হাত দ্বারা ধরে তাহলে নামাজ ভেঙে যাবে। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে , যে কাজ এক হাত দ্বারা করা যায় সে কাজে দুই হাত ব্যবহার করলে সেটা আমলে কাছীর হবে যার দ্বারা নামাজ ভেঙে যাবে।
৩. পকেট থেকে মোবাইল এক হাত দিয়েই বের করেছে এবং হাত দিয়েই ধরেছে কিন্তু এমনভাবে ধরেছে যে অন্য কেউ দূর থেকে দেখে মনে করছে যে সে নামাজের মধ্যে নেই তাহলেও নামাজ ভেঙে যাবে। যার কারণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. একবার কল আসার কারণে নামাজী মোবাইল বের করে রিং বন্ধ করেছে অতপর পুনরায় আবার কল আসছে এবং বন্ধ করছে এবং তৃতীয়বার আবার কল আসার পর মোবাইল বের করে বন্ধ করেছে তাহলে একই রোকনে তিনবার এই আমাল একাধারে করার কারণে আমলে কাছীর হয়ে গেছে, সে কারণে নামাজ ভেঙে যাবে।
৫. যদি এক হাত দ্বারা মোবাইল বের করা সম্ভব না হয় এবং নামাজের মধ্যে রিং বাজতে থাকে তাহলে দেখতে হবে যদি রিংটোন সাদাসিধা হয় এবং আওয়াজও এমন নয় যে নামাজীদেরকে বিরক্ত করবে তাহলে এমতাবস্থায় রিং বাজতে থাকা অবস্থায় নামাজকে পূর্ণ করবে। কেননা শুধূমাত্র একাগ্রতার মধ্যে বিঘœ সৃষ্টি হওয়া এমন ওযর নয় যার কারণে নামাজ ছেড়ে দিবে। কিন্তু যদি রিংটোনে গান লাগানো থাকে এবং আওয়াজ এত উচ্চ হয় যে বার বার রিং বাজার কারণে লোকদের কষ্ট হয় এবং নামাজ আদায় করা দূরুহ হয়ে পড়ে তাহলে এমতাবস্থায় নামাজ ছেড়ে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করতে হবে।
الله اعلم بالصواب
শরয়ী দলীল: রদ্দুল মুহতার ১মখন্ড ৬৪০ পৃষ্ঠা,বাদায়েউস সানায়ে ১ম খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠা, কাজী খান ১ম খন্ড ১২৮ পৃষ্ঠা।
