ইলেকট্রিক পদ্ধতিতে প্রাণী হত্যার বিধান
ইসলাম সকল ক্ষেত্রেই পরিমিতি, সৌন্দর্য ও সুচারুতা পছন্দ করে এবং এর নির্দেশও দিয়ে থাকে। যেমন প্রাণী জবেহ ও মারার ক্ষেত্রে সুন্দর ও সহজতর পদ্ধতি গ্রহণ করতে ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে । বর্তমানে ইলেকট্রিকের ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় এর মাধ্যমে প্রাণী হত্যার প্রচলনও শুরু হয়েছে। তাই বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে এ সংক্রান্ত কিছু বিধান তুলে ধরবো ইন্শাআল্লাহ। ইলেকট্রিক আগুনের কাছাকাছি হওয়ায় নিম্নে উভয়ের পরিচয় ও পরস্পরের মধ্যকার সম্পর্ক আলোচনা করা হলো।
ইলেকট্রিক ও আগুন
আগুন হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া (যৌগিক পদার্থ বিশেষ) এর ফল। রাসায়নিক বিক্রিয়া যেখানে থাকে, সেখানে আলো ও তাপ উৎপন্ন হয়। সাধারণত সকল রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়। তবে কিছু বিক্রিয়ায় তাপ আর কিছু বিক্রিয়ায় শুধু আলো উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎ হলো চার্জীয় কলার গতি (অর্থাৎ ইলেকট্রন ও প্রোটন যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কতগুলো পদার্থ) এর ফল। এগুলোর গতিতেই বিদ্যুৎ তৈরি হয়। আর ইলেকট্রন সব সময় প্রোটনের তুলনায় মাইনাস থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি তাপ উৎপন্ন করে এবং এতে যদি মাত্রাতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়, তখন জায়ন বিক্রিয়া (অক্সিজেন) শুরু হয় এবং আগুন উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে যখন বিদ্যুৎ চলে, তখন বিদ্যুৎ পরিবাহী তারে আগুন থাকে না। কিন্তু যখনই শক (ঝযড়পশ) হয় দুই তারে বা নেগেটিভ-পজেটিভ একত্রিত হয় তখন বিদ্যুতের যে গতি থাকে তা অনেক সেøা হয়ে তাপমাত্রা প্রচুর পরিমাণে বেড়ে আগুন ধরে যায়। তখন সেই আগুন আর সাধারণ আগুনে কোন পার্থক্য থাকে না।
প্রাণী হত্যার পদ্ধতি ও বিধান
কোন প্রাণী (যেমন বিড়াল, কুকুর, পিঁপড়া, জমিনে বিচরণশীল কীট-প্রতঙ্গ ও হিংস্র প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড়) যদি ক্ষতিকারক বা কষ্টদায়ক হয়, এগুলোকে মারা জায়েয আছে। হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন-
عن النبي أنه قال: خمس فواسق يقتلن في الحل والحرم: الحية، والغراب الأبقع، والفارة، والكلب
العقور، والحديا. وفي رواية: الحدأة
“পাঁচটি দূরাচারী (দুষ্কৃতি) প্রাণী রয়েছে যেগুলোকে হিল (হারাম শরীফের নির্দিষ্ট সীমা) ও হারামে মারা যাবে। সাপ, নানান রঙবিশিষ্ট কাক, ইঁদুর, পাগলা কুকুর ও চিল।” হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রাহ. বলেন-
اتفق جماهير العلماء علی جواز قتلهن في الحل والحرم والإحرام
“জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরাম হিল ও হারামে এবং ইহরাম অবস্থায় উল্লিখিত প্রাণীগুলো হত্যার বৈধতার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।” কারণ এ পাঁচ প্রকার প্রাণী যে কোন সময় মানুষকে ক্ষতি করতে পারে। তাই হারাম শরীফের ব্যাপক নিরাপত্তার বিধান সত্তে¡ও নবীজী এগুলোকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, কষ্টদায়ক প্রাণী হত্যা করার সুযোগ আছে।
আল্লামা ইবনু নুজাইম রাহ. বলেন-
وجاز ما قتل يضر من البهائم كالكلب العقور والهرة إذا كانت تأكل الحمام والدجاج لإزالة الضرر.
একই ভাষ্য ব্যক্ত করেছেন আল্লামা শামী রাহ.-
جاز ما قتل يضر منها ككلب عقور وهرة تضر إذا كما كانت تأكل الحمام والدجاج
“কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর চতুষ্পদ প্রাণী নিধন ও নির্মূল করা জায়েয। যেমন, পাগলা কুকুর, কবুতর ও মুরগি খেয়ে ফেলে এমন বিড়াল।” তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম কষ্টদায়ক প্রাণী হত্যা করা এবং প্রাণী জবেহ করার বিষয়টি একেবারেই উন্মুক্ত করে দেয়নি। বরং সুন্দর ও অনুপম পদ্ধতি গ্রহণের প্রতি তাগিদ দিয়েছে। হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস রাযি. বর্ণনা করেন-
قال: ثنتان حفظتهما عن رسول الله إن الله كتب الإحسان على كل شيء، فإذا قتلتم فأحسنوا القتلة
وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبح، وليحد أحدكم شفرته وليرح ذبيحته
“রাসূলুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক বস্তুর ব্যাপারে ‘ইহসান’ (নিপুনতা ও পূর্ণতা) আবশ্যক করেছেন। (তিনি নির্দেশ দিয়েছেন) যখন তোমরা হত্যা কর, তখন উত্তম পন্থায় হত্যা কর। আর যখন তোমরা জবেহ কর, তখন উত্তম পন্থায় জবেহ কর এবং ছুরি ভালভাবে ধার দিয়ে নাও, যাতে জবেহ করা পশুটি অতিরিক্ত কষ্ট না পায়।” সুতরাং হত্যার সময় সহজ ও তুলনামূলক আরামদায়ক পদ্ধতিই গ্রহণ করা উচিত। বেপরোয়া হয়ে যে কোনভাবে হত্যা করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন-
والإحسان في ما قتل يجوز من قتله الناس والدواب : إزهاق نفسه على أسرع الوجوه وأسهلها وأوحاها من
غير زيادة في التعذيب ، فإنه إيلام لا حاجة إليه ... والمعنى : أحسنوا هيئة الذبح ، ةوهيئ القتل . وهذا
يدل على وجوب الإسراع في إزهاق النفوس التي يباح إزهاقها على أسهل الوجوه
“যখন বৈধভাবে কোন মানুষ বা প্রাণী হত্যার প্রয়োজন হবে, তখন হত্যার ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ হলো হত্যার কাজটি এমন পদ্ধতিতে সম্পাদন করা যেন অতিরিক্ত কোন কষ্ট ছাড়া দ্রæত ও সহজে প্রাণ বের হয়ে যায়। অন্যথায় তা হবে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দান। সুতরাং হাদীসের অর্থ হলো- তোমরা জবেহ এবং হত্যার ক্ষেত্রে সুন্দর ও সুচারু পদ্ধতি অবলম্বন কর। আর তা এ বিষয়ের প্রতি স্পষ্টরূপে ইঙ্গিত করছে যে, বৈধ কোন হত্যা বা জবেহের ক্ষেত্রে প্রাণ দ্রæত ও সহজে বের হওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করা ওয়াজিব।”
আগুনে পোড়ানোর হুকুম
ইলেকট্রিসিটি থেকে যেহেতু আগুন তৈরি হয় এবং তা থেকে লব্ধ আগুন দিয়ে প্রাণী হত্যার নযীরও কম নয়, তাই এ পদ্ধতিতে হত্যা করার বিধান উল্লেখ করার পূর্বে আগুনের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া আবশ্যক। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন-
کنا رسول الله في سفر، فانطلق لحاجته، فجاء النبي ورأی قرية نمل قد حرقناها فقال: من حرق هذه؟ قلنا: نحن، قال لا إنه: ينبغي أن يعذب بالنار إلا رب النار
“আমরা রাসূলুল্লাহ এর সাথে এক সফরে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখলেন, আমরা একদল পিঁপড়ার বাসা পুড়িয়ে দিয়েছি। তিনি বললেন, কে এগুলো পুড়িয়েছে? উত্তরে বললাম, আমরা। তিনি বললেন, আগুনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া সমীচীন নয়।”
হযরত ইকরিমা রাহ. বর্ণনা করেন-
أن عليا أخذ ناسا ارتدوا عن الإسلام، فحرقهم بالنار، فبلغ ذلك ابن عباس، فقال لو: كنت لم ناأ أحرقهم،
إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا :قال تعذبوا بعذاب عز الله وجل. أحدا وقال رسول الله : من
بدل دينه، فاقتلوه، فبلغ ما عليا قال ابن عباس فقال ويح أم ابن ابن عباس
“হযরত আলী রাযি. কিছু মুরতাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারলেন। এ খবর হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এর কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন, যদি (তাঁর স্থানে) আমি হতাম, তাহলে তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ যা দিয়ে (আগুন) শাস্তি দেন, তা দিয়ে তোমরা কাউকে শাস্তি দিও না। রাসূলুল্লাহ আরো বলেন, যে ব্যক্তি তার দ্বীনকে পরিবর্তন করে তোমরা তাকে হত্যা কর। অতঃপর আলী রাযি. এর নিকট ইবনে আব্বাস রাযি. এর বক্তব্য পৌঁছলে তিনি বলেন, আফসোস ইবনে আব্বাসের জন্য।” এখান থেকে বুঝা যায় যে, আগুন দ্বারা পুড়িয়ে মারা হারাম নয়। তাই হযরত আলী রাযি. এর ঘটনাসহ অনুরূপ সাহাবা যুগের আরো কিছু ঘটনা পাওয়া যায়, যেগুলোর সারসংক্ষেপ আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রাহ. উমদাতুল কারীতে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এর আপত্তি হযরত আলী রাযি. এর কাছে পৌঁছলে তিনি তা গ্রহণ করেননি।
উপরোক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রাহ. বলেন-
وقال المهلب: ليس نهيه عن التحريق على التحريم، وإنما هو على سبيل التواضع لله، والدليل أنه على
ليس بحرام سمل الشارع أعين الرعاة بالنار وتحريق الصديق رضي الله تعالى عنه الفجاءة بالنار في مصلى
المدينة بحضرة الصحابة وتحريق علي رضي الله تعالى عنه الخوارج بالنار، وأكثر علماء المدينة يجيزون
تحريق الحصون على أهلها بالنار وقول أكثرهم بتحريق المراكب وهذا كله يدل أن على ىمعن الحديث
على الندب
“আগুনে জ্বালানোর ব্যাপারে হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা হারাম হিসেবে নয়। বরং তা মহান আল্লাহর শানের প্রতি লক্ষ্য করে বিনয় প্রকাশার্থে বলা হয়েছে। এটা যে হারাম নয় এর দলীল হলো, রাসূল আগুন দ্বারা রাখালদের চক্ষুগুলো উপড়ে ফেলে শাস্তি দিয়েছেন এবং আবু বকর সিদ্দীক রাযি. সাহাবায়ে কেরামের উপস্থিতিতে মদীনার ঈদগাহে ফুজাআ আস সুলামি’কে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন। এমনিভাবে আলী রাযি. খারেজীদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া মদীনার অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম কেল্লাকে বাসিন্দাসহ জ্বালিয়ে দেয়ার বৈধতার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। তাদের অধিকাংশদের মত হলো বাহনগুলো জ্বালিয়ে দেয়া। এ সকল ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে,হাদীসের নিষেধাজ্ঞাটি হারাম হিসেবে নয় বরং হাদিসটি মুস্তাহাবের অর্থে প্রযোজ্য।”
উভয় দিকের হাদীসের প্রতি লক্ষ্য রেখে আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী রাহ. বলেন-
وفي المبتغی يکره إحراق جراد وقمل وعقرب، ولا بأس بإحراق حطب فيها نمل
“পঙ্গপাল, ক্ষুদ্রকীট ও বিচ্ছু জ্বালানো মাকরূহে তাহরীমী। তবে যে কাঠখড়িতে পিঁপিলিকা আছে তা জ্বালাতে কোন অসুবিধা নেই।”
আল্লামা শামী রাহ. বলেন-
قوله يکره إحراق جراد أي( تحريما ومثل القمل البرعوث ومثل العقرب والحية
“পঙ্গপাল আগুনে জ্বালানো মাকরূহে তাহরীমী। অনুরূপভাবে ক্ষুদ্রকীট, উকুন, সাপ ও বিচ্ছু আগুনে জ্বালানো মাকরূহে তাহরীমী।” উপরোক্ত হাদীস ও ফিকহী বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন প্রাণীকে পুড়িয়ে এবং অতিরিক্ত কষ্ট দিয়ে হত্যা করা বৈধ নয়। কারণ এখানে দু’টি আপত্তিকর জিনিস একত্রিত হয়েছে। প্রথম আগুন, যা দিয়ে কেবল আল্লাহ তা‘আলাই কোন প্রাণীকে শাস্তি দিতে পারেন, অন্য কেউ নয়। দ্বিতীয় জবেহ বা হত্যার ক্ষেত্রে ইসলামের অনুপম আদর্শের পরিপন্থী হওয়া।
ইলেকট্রিক পদ্ধতিতে প্রাণী হত্যা
প্রাণী হত্যার ইলেকট্রিক পদ্ধতি অনেক হতে পারে। যেমন শক দেয়া বা পুড়িয়ে ফেলা। শক বা এ জাতীয় কোন পদ্ধতিই শরী‘আত সিদ্ধ নয়। কারণ তা শরী‘আতের নীতি পরিপন্থী। হত্যার ক্ষেত্রে শরী‘আত তুলনামূলক সহজ পদ্ধতি গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইলেকট্রিক শকের মাঝে অনুপস্থিত। বরং এতে যন্ত্রণা বেড়ে যায় এবং প্রচÐ চাপ সৃষ্টি হয়। সুতরাং এ পদ্ধতি অবলম্বন করা শরী‘আতসম্মত নয়। কখনো ইলেকট্রিক আগুন দ্বারা পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পূর্বের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আগুনে কোন প্রাণী হত্যা করা মাকরূহে তাহরীমী। একথাও আমরা বুঝে এসেছি যে, সাধারণ আগুন ও ইলেকট্রিসিটিলব্ধ আগুন এক। তাই ইলেকট্রিক আগুন দিয়ে হত্যা করাও মাকরূহে তাহরীমী হবে।
মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট ব্যবহার
আমাদের দেশে মশা মারার এক ধরনের ইলেকট্রিক ব্যাট রয়েছে। সে ব্যাট দিয়ে যেহেতু মশা বিদ্যুতের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়; তাই মশা মারার ঐ ব্যাট ব্যবহার করা জায়েয হবে না। তবে মশা থেকে বেঁচে থাকার অন্য কোন মাধ্যম না থাকলে একান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বর্তমান মুফতীয়ানে কেরাম ইলেকট্রিক ব্যাট ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে থাকেন। আল্লামা শামী রাহ. বলেন
کن جواز التحريق والتغريق مقيد في کما شرح السير لم إذا بما يتمکنوا من الظفر مبه بدون ذلك بلا
مشقة عظيمة فإن تمکنوا بدونها فلا يجوز
“কিন্তু কষ্টদায়ক প্রাণী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ও পানিতে ডুবিয়ে মারার বৈধতা ঐ ক্ষেত্রের সাথে সম্পৃক্ত যখন (এ সকল ক্ষতিকর প্রাণী থেকে) অনেক কষ্ট ও ভোগান্তি ছাড়া বাঁচার আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা না থাকবে। হ্যাঁ, যদি বিকল্প ব্যবস্থা থাকে, তাহলে জ্বালানো জায়েয নেই।” এখানে উল্লেখ্য যে, কোন কোন সময় বিদ্যুৎ দিয়ে হত্যা না করলেও মুরগি বা গরু জবেহের পূর্বে বিদ্যুৎ শক দিয়ে বেহুঁশ করা হয়, যা একটি বাড়তি যন্ত্রণা। সাময়িক সুবিধার প্রতি অতিশয় প্রলুব্ধ হয়ে কোন প্রাণীকে এভাবে কষ্ট দেয়া শরী‘আত সমর্থন করে না। অনেক সময় তো বৈদ্যুতিক শক দিতে গিয়ে মাত্রা এত বেড়ে যায় যে প্রাণী তাদের অজান্তে মারা যায়। আর মৃত অবস্থাই জবেহ করে বাজারে সাপ্লাই করা হয়। হ্যাঁ, যদি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, বৈদ্যুতিক শক দিলে প্রাণীর তুলনামূলক কষ্ট কম হবে তখন সর্তকতার সাথে নির্দিষ্ট মাত্রায় শক দেয়া যেতে পারে। মুফতী তকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ বলেন, ‘একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, ইসলামী শরী‘আত পশু জবেহের যে পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে, সেটাই পশুর প্রাণ বের হওয়ার জন্য অনেক উত্তম ও সহজ পদ্ধতি। সুতরাং বিদ্যুতের শকের মাধ্যমে পশুকে অচেতন করে জবাই করা কষ্টমুক্ত নয়। অতএব যদি এটা অকাট্যভাবে সাব্যস্ত হয় যে, এতে পশুর কষ্ট কম হয় এবং এর কারণে মৃত্যু হয় না, তাহলে উক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েয হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।”
শরয়ী দলীল:

alhamdulillah
ReplyDeleteমাশাআল্লাহ
ReplyDelete