প্রশ্নঃ বিনিময়ের মাধ্যমে কারো দ্বারা খতমে কুরআন কারীম, খতমে তাহ্লীল ইত্যাদি পড়িয়ে মৃত ব্যক্তির ঈছালে ছাওয়াবের ব্যবস্থা করা শরীয়ত সম্মত কি না?
উত্তর:
মৃত ব্যক্তিদের ঈছালে ছাওয়াবের ব্যবস্থা করা এবং তাদের মাগফিরাত কামনা করা প্রত্যেক জীবিতদের উপর নৈতিক দায়িত্ব। তবে তা সম্পূর্ণ শরীয়ত সম্মত তরীকায় হতে হবে। অন্যথায় ছাওয়াব পৌঁছবেনা বরং গুনাহ্ হবে। যেমনঃ কুরআন কারীম, তাহ্লীল, দুরূদ শরীফ, এস্তেগফার ইত্যাদি পড়ে সমস্ত মৃত ব্যক্তিদের রূহের উপর ঈছালে ছাওয়াব করা যাবে। তেমনিভাবে টাকা পয়সা, দান-খায়রাত, খানা খাওয়ানো ইত্যাদির মাধ্যমেও করা যাবে। তবে বিনিময়ের মাধ্যমে ঈছালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে দু‘আ-দুরূদ কিংবা কুরআন কারীমের খতম, তাহ্লীল ইত্যাদি করে বিনিময় নেয়া-দেয়া উভয়টা না জায়েয। কেননা বিনিময় নিয়ে মৃত ব্যক্তির ঈছালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে কিছু পড়ে বিনিময় গ্রহণকারী নিজেই ছাওয়াবের মালিক হবে না। অপরকে কিভাবে ছাওয়াব পৌঁছাবে। পক্ষান্তরে যদি কেউ মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যতীত শুধুমাত্র ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে নিজের হালাল মাল দ্বারা গরীব-মিসকীন, দ্বীনদার লোক, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদিকে খাবার খাওয়াতে পারে, তাও ছাওয়াব হিসাবে গণ্য হবে। কিন্তু বর্তমানে ঈছালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন কারীমের খতম এবং দু‘আ-দুরূদ ইত্যাদি পড়িয়ে যে টাকা-পয়সা দেওয়া হয় কিংবা খাবার খাওয়ানো হয়, তা নি:সন্দেহে পারিশ্রমিকের অন্তর্ভূক্ত। কেননা টাকা না দিলে কিংবা খাবার না খাওয়ালে মৃতের ওয়ারিশগণেকে কৃপন ইত্যাদি বলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের কটুক্তি করা হয়, যা পারিশ্রমিক চাওয়ারই নামান্তর।
প্রমাণ: সহিহ বুখারী(১/১২), মুসনাদে আহমদ(২৮/২৮৮), মুশকিলুল আছার(১১/১১২), শামী(৬/৬৯১)